মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৮ ডিসেম্বর ২০১৬

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মহিলা সহায়তা কর্মসূচি

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কর্মসূচি

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় ১৯৮৬ সালে নির্যাতিত নারীদের আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ১ জন আইন কর্মকর্তার সমন্বয়ে ৪টি পদ নিয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৬ সালেই নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রম জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে সম্প্রসারিত হয়। ইউনিয়ন পর্যায়েও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। এ কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী ও বেগবান করার জন্য মহিলা সহায়তা কর্মসূচি প্রকল্প নামে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

এ প্রকল্পের আওতায় ৬টি বিভাগীয় শহরে নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে ৬টি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। বর্ণিত প্রকল্পটি বর্তমানে রাজস্বখাত ভূক্ত হয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মসূচি হিসেবে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীর নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত ‘‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল’’ এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধের যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও সব ধরনের সহায়তা প্রদান করে আসছে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি ও সেল

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, সদর কার্যালয়। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঢাকা।

 

কমিটি/সেলের কার্যপরিধি

ক) নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও যৌতুক বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য    মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পণা অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা।

খ) সারাদেশে যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

 গ) কেন্দ্রীয় সেলের পদক্ষেপ সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করা।

ঘ) যৌতুক ও নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা।

ঙ) নারী ও শিশু নির্যাতন ও যৌতুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ ও মিমাংসার ব্যবস্থা করা।রুজুকৃত মামলা ও নিষ্পত্তিকৃত মামলার তালিকা তৈরী করা। মামলাভিত্তিক শাস্তি বিবরণ সংগ্রহ ও কেন্দ্রীয় সেলে প্রেরণ। কেন্দ্রীয় সেলের দিক নির্দেশ অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ।

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি

কমিটি নারী নির্যাতন সম্পর্কিত অভিযোগসমূহ গ্রহণ করে সমাধানের জন্য জরুরীভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। কমিটি যে সমস্ত অভিযোগ সমাধান করতে পারবে না, বিস্তারিত বিবরণ সহ মহা পরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ঢাকা এর নিকট প্রেরণ করবে।

 জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসাবে কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি

 

 

 

 

 

 

উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসাবে কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন।

কমিটি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সম্পর্কিত কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

কমিটি নারী ও শিশু নির্যাতন সম্পর্কিত অভিযোগ সমূহ গ্রহণ করে সেগুলি সমাধানের জন্য জরুরীভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। কমিটি কর্তৃক যেসব অভিযোগের নিস্পত্তি সম্ভব নয় সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নিকট প্রেরণ করবে।

 কমিটি যৌন হয়রানী রোধ/ইভটিজিং প্রতিরোধে সকল প্রকার কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

 কমিটি বাল্য বিবাহ রোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

কমিটি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা এবং যৌন হয়রানী রোধ/ইভটিজিং ঘটনার পরিসংখ্যান সংগ্রহ করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

 কমিটি যৌতুক বিরোধী আন্দোলনকে একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিনত করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

কমিটির গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিমাসে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করবে।

ইউনিয়ন নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি

ক) কমিটি নারী ও শিশু নির্যাতন সম্পর্কিত অভিযোগসমূহ গ্রহণ করে সেগুলো সমাধানের জন্য জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। কমিটি যে সমস্ত অভিযোগ সমাধান করতে পারবে না, সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ সহ উপজেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করবে।

খ) কমিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে সর্ব প্রকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সম্পর্কিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

গ) সেল উপজেলা পর্যায়ের নারী নির্যাতন ঘটনার পরিসংখ্যান সংগ্রহ করার কার্যক্রম গ্রহণ করবে।

ঘ) প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে একটি সাইনবোর্ড থাকতে হবে, যাতে নির্যাতিত মহিলারা জানেন যে প্রয়োজনে কোথায় গেলে তারা সাহায্য সহযোগিতা পেতে পারেন।

 কমিটি মাসে অন্তত একবার বৈঠকে বসবে।

ক)  নারী নির্যাতন প্রতিরোধমুলক একটি প্রতিবেদন প্রতিমাসে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করবে।

    খ)    ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সদস্য সচিব হিসাবে কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন।

 নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যে সকল কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে তার তথ্য সংগ্রহপূর্বক সন্নিবেশিত আকারে প্রতিবেদন প্রতিমাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।

 

 এক নজরে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল ও মহিলা সহায়তা কেন্দ্রের কার্যক্রমঃ

১. অসহায় নির্যাতিত মহিলাদের বিনা খরচে আইনগত পরামর্শ প্রদান।

২.নির্যাতিতা ও অসহায় নারীদের অভিযোগ গ্রহণ এবং বিনামূল্যে আইনী সহায়তা দান।

৩. বাদী ও বিবাদী  পক্ষের মধ্যে সালিশ/কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে পারিবারিক কলহ মিমাংসা করা ।

৪. পারিবারিক নির্যাতনের শিকার নারীদের ভরণ পোষণ আদায়ের ব্যবস্থা করা ।

৫. নির্যাতিতা ও তালাক প্রাপ্ত নারীদের দেনমোহর আদায়ের ব্যবস্থা করা।

৬. নাবালক সন্তানের খোরপোষ আদায়ের ব্যবস্থা করা ।

৭. যৌতুক প্রথাকে নিরুৎসাহিত করা।

৮. বাল্য বিবাহ নিরোধের পক্ষে কাজ করা।

৯. বিনা খরচে সেলে নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে বিচার পরিচালনায় সহায়তা করা।

১০. মামলার ফলো-আপ।

১১. পত্রিকায় প্রকাশিত নারী নির্যাতন সংক্রান্ত ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ এবং ফলো-আপ।

১২. নির্যাতিত ও আশ্রয়হীন নারীদের বিনা খরচে  (ছয়) মাস পর্যন্ত (দু‘টি সন্তানসহ অনুর্ধ ১২ বছরের নীচে) সহায়তা কেন্দ্রে আশ্রয়  প্রদান।

১৩. সহায়তা কেন্দ্রে আশ্রিত নারী ও শিশুদের বিনামূল্যে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান।

সমাজে পুর্নবাসনের লক্ষ্যে সহায়তা কেন্দ্রে অবস্থানকালীন সময়ে নারীদের বিনা খরচে প্রশিক্ষণ প্রদান।  

             ০৭ টি সেল্টার হোমের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর

            নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল ও মহিলা সহায়তা কেন্দ্র পরিচালনা নীতিমালা


Share with :
Facebook Facebook